কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ এ ০৯:৩১ PM
অকৃষি খাস জমি
কন্টেন্ট: সেবা এবং ধাপ
অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত বলতে সরকারী মালিকানাধীন (খাস) কিন্তু কৃষিকাজের জন্য নয়—এমন জমি নির্দিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহার বা মালিকানা দেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাংলাদেশে এটি সাধারণত জেলা প্রশাসন (DC অফিস) এর মাধ্যমে করা হয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়।
নিচে সহজভাবে পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেওয়া হলো 👇
১️⃣ আবেদন করা
প্রথমে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (DC) বরাবর আবেদন করতে হয়।
আবেদনে যা উল্লেখ করতে হয়:
আবেদনকারীর নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা
যে জমি বন্দোবস্ত চাই তার মৌজা, খতিয়ান, দাগ নম্বর, পরিমাণ
জমি কোন কাজে ব্যবহার হবে (বাসস্থান/প্রতিষ্ঠান/ব্যবসা ইত্যাদি)
সংযুক্ত কাগজপত্র:
জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
নাগরিক সনদ
আবেদনকারীর ছবি
জমির স্কেচ/নকশা (যদি থাকে)
প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য কাগজ
২️⃣ ভূমি অফিসে তদন্ত
আবেদন পাওয়ার পরে উপজেলা ভূমি অফিস (AC Land) তদন্ত করে।
তদন্তে দেখা হয়:
জমিটি সত্যিই খাস জমি কিনা
বর্তমানে কেউ দখলে আছে কিনা
জমিটি সরকারি প্রয়োজনের জন্য দরকার আছে কিনা
আবেদনকারীর যোগ্যতা
তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়।
৩️⃣ জেলা কমিটির সুপারিশ
জেলায় সাধারণত একটি খাস জমি বন্দোবস্ত কমিটি থাকে।
কমিটি:
তদন্ত রিপোর্ট দেখে
প্রয়োজন হলে শুনানি নেয়
তারপর সুপারিশ বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত দেয়।
৪️⃣ জেলা প্রশাসকের অনুমোদন
কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক (DC) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন।
অনুমোদন হলে:
বন্দোবস্তের আদেশ জারি হয়
আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট মূল্য/খাজনা/ফি দিতে হয়।
৫️⃣ বন্দোবস্ত দলিল (Lease/Settlement)
সব টাকা পরিশোধ করলে:
আবেদনকারীর সাথে সরকার বন্দোবস্ত চুক্তি করে
জমি লিজ/বন্দোবস্ত হিসেবে রেকর্ড হয়
পরে নামজারি (Mutation) করা হয়।
✅ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
খাস জমি সরাসরি কেনা যায় না; সরকার বন্দোবস্ত দেয়।
অনেক ক্ষেত্রে এটি লিজ ভিত্তিক হয় (স্থায়ী মালিকানা নয়)।
সরকারি প্রকল্প বা প্রয়োজন থাকলে বন্দোবস্ত বাতিলও হতে পারে।